মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানি সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ইরানের দক্ষিণ নৌবহরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘সাহান্দ’ ডেস্ট্রয়ার এবং ‘কুর্দিস্তান’ নামের একটি বিশাল ভাসমান নৌঘাঁটি।
জেনারেল হাতামি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের নৌবাহিনীর নজিরবিহীন কর্তৃত্ব এবং সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের অকুতোভয় প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরান-ইराक যুদ্ধ বা ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’র সময় নৌবাহিনীর সদস্যদের অসামান্য সাহসিকতার কথা স্মরণ করে বলেন, সেই ইতিহাস ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌ-ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে জেনারেল হাতামি বলেন, অভিজ্ঞ জনশক্তি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সামুদ্রিক শিল্পের সহায়তায় ইরান আজ নৌ-সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় মেধাভিত্তিক কোম্পানিগুলোর (Knowledge-based companies) সহযোগিতায় নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এসব যুদ্ধজাহাজ ও সরঞ্জাম ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক বিশাল অগ্রগতির সাক্ষ্য বহন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ইরানের অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে তেহরান এই অঞ্চলে সর্বদা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সরকার বা তেল আবিবের শাসকগোষ্ঠী এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, ইসরায়েলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
পরিশেষে, মেজর জেনারেল হাতামি দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আত্মনির্ভরশীলতা এবং প্রতিরক্ষা অগ্রগতির পথে ইরানের এই যাত্রা কোনো শক্তির পক্ষেই থামানো সম্ভব নয় এবং তা পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে। শত্রুর যেকোনো ভুল পদক্ষেপের চরম মূল্য দিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।