শনিবার রাত থেকে ছড়িয়ে পড়া এই গুজবের প্রেক্ষিতে ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য ও অবহিত সূত্র দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’-কে নিশ্চিত করেছে যে, সীমান্তে এ ধরনের কোনো সামরিক অভিযান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেনি। এই বিবৃতির মাধ্যমে ইরান মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল।
শনিবার রাতে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এবং কয়েকটি অনির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খোররমাবাদ, ইলাম এবং কেরমানশাহ থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। ওই সব প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল যে, আইআরজিসি মূলত সীমান্তে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যেই এই খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এমন খবর বড় ধরণের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে মেহের নিউজ এজেন্সির সঙ্গে আলাপকালে ওই বিশেষ সূত্রটি জানিয়েছেন, এই দাবিগুলো ‘সম্পূর্ণ ভুল’ এবং ‘বানোয়াট’।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পশ্চিম সীমান্ত বা উল্লেখিত শহরগুলো থেকে ইরাকের ভূখণ্ডের দিকে কোনো প্রকার ভারী অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি। সূত্রটি আরও জানান, একটি নির্দিষ্ট মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সীমান্ত এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
অতীতে ইরান এই অঞ্চলে অবস্থানরত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও, শনিবার রাতের কথিত হামলার খবরটি ছিল পুরোপুরি গুজব। তেহরানের এই দ্রুত ও আনুষ্ঠানিক অস্বীকারোক্তি কূটনৈতিক দিক থেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সত্যতা যাচাই ছাড়া এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তা ইরাক ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।
ইরান সরকার সবসময়ই প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা বলে আসছে, যদিও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা আপোষহীন। এই অস্বীকারোক্তির মাধ্যমে তেহরান নিশ্চিত করল যে, বর্তমানে ওই অঞ্চলে বড় কোনো সামরিক এসকেলেশন বা উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিকল্পনা তাদের নেই। আপাতত গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।