রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হারেদি নিয়োগ বিল পাসে আরব দলের সমর্থনের গুঞ্জন নাকচ করল নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৪৭ পিএম

হারেদি নিয়োগ বিল পাসে আরব দলের সমর্থনের গুঞ্জন নাকচ করল নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি
ছবি: Flash 90

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি তাদের বিতর্কিত ‘ড্রাফট এক্সেম্পশন বিল’ বা হারেদি নিয়োগ বিল পাসে বিরোধী দল ‘রাম’-এর (Ra’am) সমর্থন চাওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের অতি-রক্ষণশীল ইহুদি বা হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ সংক্রান্ত এই বিলটি নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে যে, বিলটি পাসে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ইসলামি দল রাম-এর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছে লিকুদ পার্টি। তবে শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে লিকুদ পার্টি এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। লিকুদ পার্টির মুখপাত্র গাই লেভি চ্যানেল ১২-এর ওই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, “লিকুদ বা আমাদের পক্ষ থেকে রাম পার্টির সঙ্গে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ আইন নিয়ে কোনো প্রকার আলোচনা বা যোগাযোগের খবরটি ডাহা মিথ্যা।” লেভি আরও দাবি করেন, নতুন এই আইনটি ইসরায়েলের ইতিহাসের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তার মতে, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এই আইনের মাধ্যমে আগামী সাড়ে তিন বছরে প্রায় ২৩,০০০ হারেদি ইহুদিকে সেনাবাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

অন্যদিকে, চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে রাম পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল যে, লিকুদ পার্টির ভেতরেই এই বিল নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলের একাংশের সমর্থন না পাওয়ার আশঙ্কায় নেতানিয়াহুর দল বিরোধীদের, বিশেষ করে আরব দলটির সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিল। রাম পার্টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না করলেও, বর্তমান জোট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বা তাদের সংকট থেকে উদ্ধার করতে আগ্রহী নন।

 

এটি স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক সমীকরণে আরব দলটির অবস্থান এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লিকুদ ও রাম পার্টির এই বিপরীতমুখী অবস্থানের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তিক্ততার রেশও রয়েছে। মাত্র গত সপ্তাহেই রাম পার্টির নেতা মনসুর আব্বাস প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘নির্বাচন চুরির চেষ্টার’ গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। নেতানিয়াহু জনসমক্ষে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে রাম পার্টির কথিত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে দলটিকে নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন।

 

এমন বৈরী পরিস্থিতিতে লিকুদ পার্টি তাদের বিল পাসে সেই রাম পার্টিরই দ্বারস্থ হচ্ছে-এমন খবরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে লিকুদের এই কঠোর অস্বীকারোক্তি আপাতত সেই গুঞ্জনে জল ঢেলেছে, যদিও হারেদি নিয়োগ বিল নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এখনো দৃশ্যমান।

 

- Times Of Israel