শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে বিতর্কিত গণমাধ্যম বিল পাসে বিশেষ কমিটি গঠন, নেসেটে তোলপাড় ও আইনি উপদেষ্টার আপত্তি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

ইসরায়েলে বিতর্কিত গণমাধ্যম বিল পাসে বিশেষ কমিটি গঠন, নেসেটে তোলপাড় ও আইনি উপদেষ্টার আপত্তি
ছবি: Flash 90

ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারহির প্রস্তাবিত বিতর্কিত গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বিলটি দ্রুত পাস করার লক্ষ্যে নেসেটের হাউস কমিটি একটি বিশেষ প্যানেল গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সোমবারের এই ভোটাভুটি এবং সিদ্ধান্ত দেশটির আইনপ্রণেতা ও আইনি উপদেষ্টাদের মধ্যে নজিরবিহীন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

হাউস কমিটির ভোটে ৮ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে এবং ৫ জন বিপক্ষে অবস্থান নেন, যা সরকারের কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত ইসরায়েলে গণমাধ্যম সংক্রান্ত যেকোনো আইন প্রণয়ন, পর্যালোচনা বা সংশোধনের এখতিয়ার থাকে 'ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি'র হাতে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এই কমিটির প্রধান এবং লিকুদ পার্টির এমপি ডেভিড বিটান বিলটির বর্তমান কাঠামোর তীব্র বিরোধিতা করছেন।

 

ফলে সরকার তাকে এবং তার কমিটিকে এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবে এই বিশেষ কমিটি গঠনের পথ বেছে নিয়েছে। নতুন এই বিশেষ কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন লিকুদ পার্টির এমপি গালিত ডিস্টেল অ্যাটবারিয়ান। ১৩ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারি জোটের ৭ জন এবং বিরোধীদের পক্ষ থেকে ৬ জন সদস্য থাকবেন। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন নেসেটের আইনি উপদেষ্টা সাগিৎ আফিক।

 

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কেবল রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে এবং নির্দিষ্ট কোনো কমিটির প্রধানকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রক্রিয়া নেসেটের তদারকি ক্ষমতা এবং কমিটিগুলোর নিজস্ব এখতিয়ারকে খর্ব করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তার মতে, রাজনৈতিক বিবেচনা কখনোই এই ধরনের কমিটি গঠনের বৈধ কারণ হতে পারে না।

 

প্রস্তাবিত এই আইনটি পাস হলে ইসরায়েলের সম্প্রচার মাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিলটিতে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার অধিকাংশ সদস্য নিয়োগ দেবেন খোদ যোগাযোগমন্ত্রী। এই কাউন্সিলের হাতে সংবাদমাধ্যমকে মোটা অংকের জরিমানা করাসহ নানাবিধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরবিহীন ক্ষমতা থাকবে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।

 

অধিবেশন চলাকালে নিজের দলের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ডেভিড বিটান এক আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "আমি আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সরকারের আগ্রাসী পদক্ষেপের বিপরীতে নেসেটের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।" তিনি সরকারের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে বলেন, সরকার একদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ তোলে।

 

অথচ তারাই এখন ঠিক একই কায়দায় নেসেটের ক্ষমতা হরণ করতে উদ্যত হয়েছে। সরকারের এই তড়িঘড়ি করে বিল পাসের প্রচেষ্টা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে এক নতুন ও গভীর সংঘাতের সূচনা করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

- Times Of Israel