প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এই সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি। তেহরানে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থেকে মন্ত্রী ফারজানেহ সাদেক সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার এবং জনগণকে তাদের জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।
তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান তেহরান ও আবুধাবির সম্পর্কের ভিত্তিভূমি রচনা করেছে। এই মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে তেহরানে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত খালিদ আব্দুল্লাহ হামিদ আব্দুল্লাহ বালহুল দুই দেশের মানুষের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে পাঁচ লক্ষাধিক ইরানি নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এছাড়া দুই দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট চলাচল করছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত এবং বিমান চলাচলের পরিসংখ্যানেই প্রমাণিত হয় যে, ইরান ও আমিরাতের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ এবং প্রাণবন্ত। তিনি এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার অপার সম্ভাবনার কথাও অনুষ্ঠানে আলোচিত হয়। রাষ্ট্রদূত বালহুল ইরানকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং বিনিয়োগসহ সব খাতেই দুই দেশের সম্পর্ক সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি গত ১৮ মাস আগে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের প্রথম সভার কথা স্মরণ করেন।
তিনি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শীঘ্রই তেহরানে এই যৌথ কমিশনের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মনোভাব এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রমাণ করে যে, অতীত ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে পাথেয় করে দুই দেশ ভবিষ্যতের পথে একসঙ্গে হাঁটতে প্রস্তুত।