সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি অ্যাটর্নি জেনারেলের তোপের মুখে বেন গভির, পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:১৮ পিএম

ইসরায়েলি অ্যাটর্নি জেনারেলের তোপের মুখে বেন গভির, পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত
ছবি: Times of Israel

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আবারও চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এবং অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারার মধ্যকার সংঘাত এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। পুলিশ বাহিনীর ওপর মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই শীর্ষ ব্যক্তির বাদানুবাদ দেশটির প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

বুধবার বেইত শেমেসে পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক পদোন্নতি প্রদান অনুষ্ঠানে বেন গভির অ্যাটর্নি জেনারেলের কঠোর সমালোচনা করেন এবং নিজের কাজের পক্ষে সাফাই গান। এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, যখন অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন যে, উগ্র ডানপন্থী নেতা বেন গভির পুলিশ বাহিনীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করছেন।

 

অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেন, মন্ত্রী বারবার পুলিশি তদন্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ’ করছেন, যা আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেন গভিরকে মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে আদালতে যেসব পিটিশন দায়ের করা হয়েছে, তার যথেষ্ট ‘তথ্যগত ও আইনি ভিত্তি’ রয়েছে। মূলত, পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই তিনি মন্ত্রীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই চিঠির জবাবে বেন গভির পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে পাল্টা আক্রমণ শানান। তিনি কারো নাম উল্লেখ না করে বলেন, “প্রশাসনের কিছু নির্দিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষ করে একজন, আমার কাজ করা এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে একদমই পছন্দ করছেন না। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যে নীতিগুলো এগিয়ে নিচ্ছি, তা তাঁর মনপুত হচ্ছে না।”

 

বেন গভির জোর দিয়ে বলেন, ওই কর্মকর্তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের কাছ থেকেই তাঁর ম্যান্ডেট বা এখতিয়ার পেয়েছেন। জনগণই তাঁকে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছে, তাই তিনি তাঁর নীতিতেই অটল থাকবেন। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের চিঠির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বেন গভির তাঁকে ‘অপরাধী’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন।

 

মন্ত্রীর অভিযোগ, অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বারবার বাধা সৃষ্টি করছেন এবং ‘সদে তেইমান’ কারাগারের ভিডিও ফাঁস সংক্রান্ত একটি স্পর্শকাতর তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। সমালোচকদের মতে, বেন গভির পুলিশ বাহিনীর ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বাহিনীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

যাকে বিশ্লেষকরা ‘ক্যারট অ্যান্ড স্টিক’ বা পুরস্কার ও শাস্তির নীতি হিসেবে বর্ণনা করছেন। ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার এই প্রকাশ্য বিরোধ নেতানিয়াহু সরকারের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

 

- Times Of Israel