মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপ নিয়ে আমিরাতের ‘ভিত্তিহীন’ দাবি, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম

পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপ নিয়ে আমিরাতের ‘ভিত্তিহীন’ দাবি, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: MNA

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবির প্রেক্ষিতে আবুধাবিকে নজিরবিহীন ও কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আন্তর্জাতিক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভিলায়েতি শুক্রবার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের জনগণের ধৈর্যের একটি সীমা রয়েছে এবং তা অসীম নয়।

 

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি আমিরাতের শাসকদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন রাখেন, ইরানের দ্বীপগুলো নিয়ে তাদের বারবার উত্থাপিত ভিত্তিহীন দাবি কি ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর সঙ্গে তাদের গোপন সহযোগিতারই অংশ? ভিলায়েতি তাঁর বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলে আমিরাতের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসের তীব্র সমালোচনা করেন।

 

তিনি ইয়েমেন ও সুদানে আবুধাবির বিতর্কিত ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাদের তথাকথিত সম্প্রসারণবাদী নীতির কারণে হাজার হাজার মুসলমানের রক্ত ঝরেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনে আমিরাতের সামরিক উপস্থিতি এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, ইয়েমেনের সুকোত্রা দ্বীপ দখলের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক উচ্চাভিলাসের কী সম্পর্ক রয়েছে এবং আমিরাত কি হরমুজ প্রণালীর মালিকানাও দাবি করতে চায় কি না।

 

ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক আরও অভিযোগ করেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি ‘ভ্রান্ত আন্তঃসীমান্ত সাম্রাজ্য’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। সুদানের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ইন্ধন যোগানো এবং দেশটিকে বিভক্ত করার প্রক্রিয়ায় আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের উদ্বেগের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

 

ভিলায়েতির মতে, এসব কর্মকাণ্ড এবং ইরানের দ্বীপ নিয়ে মিথ্যা দাবি মূলত একই সূত্রে গাঁথা, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। আবু মুসা দ্বীপের ঐতিহাসিক মালিকানার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভিলায়েতি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার হাজার বছর আগে থেকেই এই দ্বীপ ইরানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ইতিহাস ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করে বারবার এই দ্বীপের মালিকানা দাবি করাকে তিনি ঔপনিবেশিক এজেন্ডার বাস্তবায়ন হিসেবে অভিহিত করেন।

 

তেহরানের পক্ষ থেকে এমন সময়ে এই কড়া বার্তা দেওয়া হলো যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েনকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে।

 

- Mehr News