গ্রোসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের বর্তমান পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর এবং নির্ভুল কারিগরি নজরদারি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আইএইএ প্রধানের দাবি অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে। তিনি এই মাত্রাকে ‘অস্ত্র তৈরির উপযোগী’ পর্যায়ের অত্যন্ত কাছাকাছি বলে অভিহিত করেছেন। গ্রোসির মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের এই উচ্চ মাত্রা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে আইএইএ-এর পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার এবং নজরদারি মিশন পুনরায় চালু করা অপরিহার্য। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়া ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বাসযোগ্য কারিগরি মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। রাফায়েল গ্রোসির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তার পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্যের জেরে তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে আইএইএ প্রধানের অনুরূপ কিছু মন্তব্য এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পথ প্রশস্ত করে। তবে গ্রোসি এবারের সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছেন, তার সংস্থার প্রচেষ্টাগুলো সম্পূর্ণরূফপ কারিগরি বা টেকনিক্যাল, যার মূল লক্ষ্য হলো পরমাণু বিস্তারের ঝুঁকি হ্রাস করা।
সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে গ্রোসি জানান, ইরানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো, রাশিয়া এবং চীনের মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শ চলছে। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো একটি টেকসই এবং যাচাইযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো, যার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
বিদ্যমান চুক্তিগুলোর আওতায় মনিটরিং মিশনগুলো পুনরায় সক্রিয় করা গেলে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারবে বলে মনে করেন এই শীর্ষ কূটনীতিক। ইরানের পরমাণু ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়।
আইএইএ প্রধানের এই সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে গ্রোসির কথায় স্পষ্ট যে, কেবল আলোচনার টেবিলে নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শকদের উপস্থিতির মাধ্যমেই এই সংকটের প্রকৃত সুরাহা সম্ভব।