মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ও রণকৌশল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৯ পিএম

স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ও রণকৌশল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ
ছবি: MNA

ইরানের সেনাবাহিনী তাদের স্থল, নৌ এবং বিমান বাহিনীর কার্যকারিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক রণকৌশলে প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ এবং সমন্বয়ক ডেপুটি রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি রবিবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় ও যুগোপযোগী করতে এই কৌশলগত সংশোধনগুলো অপরিহার্য ছিল। রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়ারি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ নিয়মিত এবং ধারাবাহিকভাবে তিন বাহিনীর-স্থল, নৌ ও বিমান-যুদ্ধ সক্ষমতা বা কমব্যাট ক্যাপাবিলিটি মূল্যায়ন করে থাকে। এটি কোনো সাময়িক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি চলমান এবং স্থায়ী ব্যবস্থা।

 

তিনি বলেন, "এই মূল্যায়নের সময় সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনা সদস্যদের ব্যক্তিগত দক্ষতা, অস্ত্রশস্ত্রের প্রস্তুতি, শত্রুকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার পদ্ধতি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহার। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার চেষ্টা করছি।" সাক্ষাৎকারে জেনারেল সাইয়ারি সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

তিনি জানান, সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোতে দেখা গেছে যে, সেনা সদস্যদের মনোবল অত্যন্ত চাঙ্গা এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত। পাশাপাশি, সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক-উভয় ধরণের সামরিক সরঞ্জামই বর্তমানে ভালো এবং কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি শক্তিশালী বাহিনীর জন্য উন্নত সরঞ্জামের পাশাপাশি উচ্চ মনোবল থাকাটা জরুরি, যা বর্তমানে ইরানি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান।

 

রণকৌশল পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রে বাহিনীগুলো কীভাবে কাজ করছে এবং সেখান থেকে কী ধরণের অভিজ্ঞতা অর্জিত হচ্ছে—তার ওপর ভিত্তি করেই এই সংশোধনীগুলো আনা হয়েছে। অর্থাৎ, বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং মহড়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার আলোকেই পুরনো কৌশলগুলো ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন পদ্ধতি সংযোজন করা হয়েছে।

 

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিবর্তনশীল যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো হুমকি আরও কার্যকরভাবে প্রতিহত করা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে বিশেষ বার্তা বহন করছে। নিয়মিত কৌশল পর্যালোচনা এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত রাখার যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

- Mehr News