তাঁর মতে, নিছক বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে এই সিরিজগুলো দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা এবং আবেগের গভীর সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে তুর্কি নাটকের অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতার মূল কারণ হলো এর বিষয়বস্তুর সঙ্গে স্থানীয় মূল্যবোধের সাদৃশ্য। পারিবারিক অটুট বন্ধন, ধর্মীয় বিশ্বাস, ন্যায়বিচার, সম্মান ও আত্মত্যাগের মতো বিষয়গুলো-যা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে-এসব নাটকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘কারা সেভদা’, ‘সুলতান সুলেমান’ (মূল নাম: মুহতেশেম ইউজিয়িল) এবং ‘কুরুলুস ওসমান’-এর মতো ঐতিহাসিক ও সামাজিক ধারাবাহিকগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দীপ্ত টিভির মতো বাংলাদেশি সম্প্রচার মাধ্যমগুলো এসব সিরিজ বাংলায় ডাবিং করে প্রচার করার ফলে তা সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে গেছে এবং ভাষাগত বাধা দূর করেছে।
টেলিভিশনের পর্দা ছাড়িয়ে তুর্কি সংস্কৃতির এই প্রভাব এখন বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। রাষ্ট্রদূতের মতে, তুর্কি রন্ধনশৈলী, ফ্যাশন বা পোশাক এবং ভাষার প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহ সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে এখন তুর্কি রেস্তোরাঁগুলোর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে তুর্কি পণ্যের ব্যবহার সেই সত্যই প্রমাণ করে। এছাড়া তুরস্ক ভ্রমণেও বাংলাদেশিদের আগ্রহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।
আমানুল হক বলেন, “তুর্কি নাটকগুলো বাংলাদেশে তুরস্কের পর্যটন, পোশাক শিল্প এবং খাদ্যাভ্যাস ছড়িয়ে দিতে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছে, যা পরোক্ষভাবে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।” এই ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পথকেও আগের চেয়ে অনেক বেশি সুগম করেছে। তুর্কি সংস্কৃতির প্রতি সাধারণ মানুষের প্রবল আগ্রহের কারণে বাংলাদেশে ‘ইউনুস এমরে ইনস্টিটিউট’-এর একটি শাখা খোলার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই নাটকগুলোর মাধ্যমে তুরস্ক নিজেকে সমৃদ্ধ ইসলামি ঐতিহ্য, সুশাসন এবং আধুনিক সক্ষমতার এক অনন্য সংমিশ্রণ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এটি বাংলাদেশে তুরস্কের ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলছে।