তাঁর পাশাপাশি দানিয়েলা রিটোর্টা, ডনি ওয়ালফোর্ড এবং নিকোলাস লিংকও তাঁদের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান এই সাহিত্য উৎসবকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। রান্ডা আবদেল-ফাত্তাহর অংশগ্রহণ বাতিলের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে উৎসবে আমন্ত্রিত বহু লেখক নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। উৎসবের সাবেক পরিচালক জো ডায়ারসহ ১১ জন সাবেক কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তকে ‘ভীষণ ভুল’ হিসেবে অভিহিত করে রান্ডাকে পুনরায় আমন্ত্রণ জানানোর দাবি তুলেছেন।
জো ডায়ার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এতগুলো পদত্যাগের ফলে বর্তমানে বোর্ডটি আইনি বৈধতা হারিয়েছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী বোর্ডে নারী ও পুরুষের নির্দিষ্ট ভারসাম্য থাকা আবশ্যক। তিনি মনে করেন, রান্ডাকে বাদ দেওয়ার এই হঠকারী সিদ্ধান্ত উৎসবের আন্তর্জাতিক সুনামকে ধূলিসাৎ করেছে। উৎসব কর্তৃপক্ষ রান্ডা আবদেল-ফাত্তাহকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে গত ডিসেম্বরে বন্ডিতে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছিল, এমন স্পর্শকাতর সময়ে তাঁকে রাখা ‘সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা’র পরিপন্থী।
তবে রান্ডা এবং তাঁর সমর্থকরা এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রান্ডার আইনজীবী ইতিমধ্যে উৎসব কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন, ঠিক কোন ‘অতীত মন্তব্য’ বা কারণের ভিত্তিতে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রান্ডা অভিযোগ করেন, উৎসব কর্তৃপক্ষ বাকস্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর ক্ষেত্রে দ্বিচারিতার আশ্রয় নিচ্ছে এবং তাঁকে অন্যায়ভাবে বন্ডি হামলার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার পিটার মালিনাউস্কাস অবশ্য বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, বোর্ড সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর মতামত চেয়েছিল এবং তিনি তাঁর সুস্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো নির্দেশ দেননি বা তহবিল বন্ধের হুমকি দেননি। মালিনাউস্কাস পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালে রান্ডা নিজেই একজন ইসরায়েলিপন্থী লেখক টমাস ফ্রিডম্যানকে বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। তাই বোর্ডের বর্তমান সিদ্ধান্তকে তিনি অযৌক্তিক মনে করছেন না।
তবে রান্ডা আবদেল-ফাত্তাহ প্রিমিয়ারের এই তুলনাকে ‘ অপমানজনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, ফ্রিডম্যানকে আসলে বাতিল করা হয়নি, বরং সময়সূচি না মেলায় তিনি আসতে পারেননি। তাছাড়া তাঁর আপত্তি ছিল ফ্রিডম্যানের লেখার অমানবিক ভাষা নিয়ে। রান্ডা বলেন, লেখকরা কেবল তাঁর সমর্থনে নয়, বরং উৎসবের মূলনীতি-ভিন্নমত ও কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ-রক্ষা করতেই এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অ্যাডিলেড রাইটার্স উইক আদৌ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।