মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগ করছেন না ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

পদত্যাগ করছেন না ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : Collected

ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দেশজুড়ে চরম বিতর্ক এবং লাখো শিক্ষার্থীর লাগাতার বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগ করছেন না দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

 

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ভূত এই নজিরবিহীন জাতীয় সংকটের দায় মাথায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

 

বরং, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এই কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পুরোপুরি তাদের মন্ত্রীর পাশেই শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে লাখো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার পর মন্ত্রীর পদত্যাগের যে জোরালো দাবি উঠেছে, তাকে পাশ কাটিয়ে সরকারের এই অনড় অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

 

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্নের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে আন্তর্জাতিক মহলও ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার এই গভীর সংকট এবং এর রাজনৈতিক টানাপোড়েন অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

বর্তমানে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং বিভিন্ন প্রথম সারির শিক্ষার্থী সংগঠনের যৌথ নেতৃত্বে এক বিশাল ও তীব্র বিক্ষোভ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

 

রাজপথে নেমে আসা ক্ষুব্ধ ও হতাশ আন্দোলনকারীদের প্রধান ও একমাত্র দাবি হলো, ৫৫ বছর বয়সী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

 

নিজেদের মেধা ও ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের এমন নির্মম অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া এই শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাদের এই মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং দেশব্যাপী এই যৌক্তিক আন্দোলন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাবেন।

 

প্রশ্নফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধের কারণে সারা দেশের তরুণ প্রজন্মের যে চরম স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, তার প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও এই আন্দোলনে নিজেদের পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জ্ঞাপন করেছেন।

 

তবে রাজপথের এই তীব্র আবেগ ও জোরালো দাবির বিপরীতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান বেশ ভিন্ন ও কঠোর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের মুখে মন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হয়তো সরকারের জন্য সবচেয়ে সহজ একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সরকার কোনোভাবেই সেই পথে হাঁটবে না।

 

বরং, সরকার এই মুহূর্তে মন্ত্রীর প্রতি নিজেদের পূর্ণ আস্থা বহাল রেখে এই মহাসংকটের একেবারে গভীরে গিয়ে তা সমূলে উৎপাটনের চেষ্টা করছে। ওই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের আপামর জনসাধারণ বর্তমান সরকারকে কাজ করার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার যে পবিত্র দায়িত্ব প্রদান করেছে, সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্বই পালন করে যাবে।

 

দেশের শীর্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা’ বা এনটিএ-এর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে যে পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো রয়েছে, তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

ইতোমধ্যে এই বৃহৎ প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত একাধিক অসাধু চক্রকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এই চক্রের মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে সরকার আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে দেশবাসীকে জোরালোভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

 

এদিকে, দেশজুড়ে চলমান এত বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এবং নিজ পদত্যাগের দাবির মাঝেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অত্যন্ত অবিচলভাবে নিজের প্রাত্যহিক রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিক নিয়মেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি আগের মতোই নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে তার সরব উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিজস্ব দাপ্তরিক পাতায় পুনরায় প্রকাশ করে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

 

ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসকারী ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর এবং আপসহীন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

এর পাশাপাশি, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমেও তাকে অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি তিনি ভারতের ওড়িশা রাজ্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও তাদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।

 

এছাড়াও, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘বাহুড়া যাত্রা’ উপলক্ষে তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিষয়ক দুই দিনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্মেলনেও ধর্মেন্দ্র প্রধান অত্যন্ত সাবলীলভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে পদত্যাগের সমস্ত জল্পনা ও চাপ উড়িয়ে দিয়ে তিনি নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি অবিচল রয়েছেন।

 

- এনডিটিভি