বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা জল্পনাকল্পনা ও বিতর্কের বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো কিছু বলার নেই।

 

তবে শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কোনো কারণে তিনি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে তাকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তা করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই আনুষ্ঠানিক অবস্থান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।

 

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির পদের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়ে যেকোনো গুঞ্জন স্বভাবতই জনমনে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দেয়, আর সেই কৌতূহল নিরসনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

মূলত দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং এটিকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে এদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রীসহ সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে কক্সবাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার দিকগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে কক্সবাজারের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের তীব্র গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কোনো প্রচ্ছন্ন ভূমিকা বা চাপ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত পরিমিত ও পেশাদার ভঙ্গিতে বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকারের আওতাভুক্ত।

 

স্বাস্থ্যগত কারণে বা অন্য কোনো যুক্তিসংগত প্রেক্ষাপটে তিনি যদি নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তবে সাংবিধানিক বিধিবিধান অনুযায়ী তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়ার পুরোটাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানে সুনির্দিষ্ট করা আছে এবং এখানে সরকারের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি করণীয় বা হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো আইনি সুযোগ নেই।

 

চলমান গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে আরও যুক্ত করেন যে, গুঞ্জন কেবলই গুঞ্জন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তবে এটি যদি ভবিষ্যতে সত্যিই কোনো বাস্তব ঘটনায় রূপ নেয়, তখন সরকার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে আরেকটি বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন চলছিল। বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বর্তমান রাষ্ট্রপতির কোনো ধরনের ফোনালাপ বা পারস্পরিক যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়।

 

অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ বা যোগাযোগের বিষয়ে তিনি একেবারেই অবগত নন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এর মাধ্যমে তিনি মূলত এই সংক্রান্ত ভিত্তিহীন বিতর্কের অবসান ঘটানোর একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছেন।

 

রাজনৈতিক এই আলোচনার বাইরে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি কক্সবাজারকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে একটি সুপরিসর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

 

এই মহাপরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিরাপদ গন্তব্য হয়ে উঠবে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

অর্থমন্ত্রী আরও একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্রসীমা এবং গভীর সমুদ্রের অফুরন্ত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি লাভবান হতে পারে, সে বিষয়ে সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে।

 

গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সরকার আরও বড় পরিসরে বেশ কয়েকটি নতুন মেগা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তা আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।