বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে বাংলাদেশ সরাসরি সদস্য রাষ্ট্র না হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক মাধ্যমে এই অমূল্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণের আনুষ্ঠানিক চিঠি বা ডিপ্লোম্যাটিক নোট এসে পৌঁছেছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে উক্ত কূটনৈতিক চিঠিটি প্রশাসনিক পর্যালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর সদয় সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করেছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন।

 

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে শান্তি, ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই শীর্ষ সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সদস্য রাষ্ট্র না হয়েও ব্রিকসের মতো প্রভাবশালী বিশ্বমঞ্চে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানানো বৈশ্বিক স্তরে ঢাকার কূটনৈতিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির এক স্পষ্ট ইতিবাচক বার্তা প্রদান করে।

 

একই সংবাদ সম্মেলনে ভারতে চলমান ছাত্র অসন্তোষ ও বৃহৎ মাপের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সেখানে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক, তরুণ ও শিক্ষার্থীর সার্বিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগ এবং বাংলাদেশের অফিশিয়াল অবস্থান নিয়েও গণমাধ্যমকর্মীরা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

 

উক্ত স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গটির জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। শামা ওবায়েদ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে জানান যে, একটি শান্তিকামী ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান প্রত্যাশা হলো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে পরম শান্তি, সম্প্রীতি ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক।

 

তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের শাসনব্যবস্থা অবশ্যই তাদের দেশের নাগরিকদের অবস্থান, পুঞ্জীভূত প্রতিক্রিয়া ও যৌক্তিক দাবিগুলোকে আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবে এবং উদ্ভূত সমস্যাগুলোর দ্রুত, টেকসই ও সুষম সমাধানের দিকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

 

কূটনৈতিক মহলের গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব এবং অভিন্ন নদনদীর পানি বণ্টনসহ একাধিক কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক বিষয় আলোচনার টেবিলে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।

 

এমন একটি চলমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বমঞ্চের ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা সমগ্র অঞ্চলের রাজনৈতিক ভূচিত্রে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় অর্থনৈতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উদীয়মান উন্নয়নশীল জোট হিসেবে ব্রিকসের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক কল্যাণমুখী ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে এই দ্বিপক্ষীয় সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে এই ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

 

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে যেকোনো জটিলতা বা অস্থিতিশীলতার নিরসন ঘটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পরম সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে একযোগে অগ্রসর হওয়ার ওপর বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লি সফরের মাধ্যমে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের এই সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।