রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার সুযোগ নেই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার সুযোগ নেই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, সাংবিধানিক সুরক্ষার কারণে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করার আইনি সুযোগ নেই।

 

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজিত এক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই আইনি অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবিধানিক বিধিনিষেধের বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন তার দায়িত্ব পালনকালে সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কাজ করেছেন।

 

পদাধিকার বলে তিনি যে সাংবিধানিক দায়মুক্তি বা ইমিউনিটি ভোগ করেন, তার ফলে তাকে কোনো আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে কেউ তার বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন, তবে সরকার সেগুলোকে আইনগতভাবে আমলে নেওয়ার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

 

সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মূলত তিনি নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্রে এই অসুস্থতার বিষয়টি বিস্তারিত ও স্বচ্ছভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে এবং সেই আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ইতোমধ্যে তার সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন।

 

সুতরাং এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আইন অনুযায়ী তিনি যেসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, তার সবই তাকে প্রদান করা হবে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খোলামেলা কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের কাছে বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার একটি বড় প্রত্যাশার জায়গা।

 

বর্তমান পরিবর্তিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার এবং প্রতিবাদ করার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য বেশ কিছু রাজনৈতিক দল সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছে, সেটিকে তিনি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার অংশ হিসেবেই দেখছেন।

 

যারা তার সমালোচনা করছেন, সেই অধিকার তাদের রয়েছে। তবে সরকার এই ধরনের রাজনৈতিক সমালোচনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমলে নেওয়ার মতো কোনো বস্তুনিষ্ঠ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে না।

 

দেশের ক্রান্তিলগ্নে সাবেক রাষ্ট্রপতির ভূমিকার কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পতনের শেষ দিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের শাসনামলে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

প্রতিটি ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকার তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাংবিধানিক সহযোগিতা পেয়েছে। এই সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকার কারণে এবং সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ অধিকারের আওতায় তিনি সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন। এর বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সমালোচনা করার স্বাধীনতা থাকলেও, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

 

অন্যদিকে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেছেন বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়।

 

এই অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান, বিষয়টি তারা কেবল সংবাদপত্রের মাধ্যমেই জেনেছেন। সরকারের কাছে গোয়েন্দা সূত্রে এমন কোনো তথ্য নেই। যে গণমাধ্যম এই সংবাদ প্রকাশ করেছে, তাদের কাছেই এর সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা উচিত।

 

একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সশরীরে লন্ডনে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ইন্টারনেটের কারণে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব। তাই এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

 

সবশেষে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার বিরুদ্ধে যদি কোনো পুরনো আইনি অভিযোগ থেকে থাকে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থান ব্যক্ত করেন।

 

তিনি বলেন, যদি সেই সময়ের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকে থাকে, তবে সেটি সেই সময়কার প্রেক্ষাপটেই বিবেচ্য। এ বিষয়ে দেশের প্রচলিত আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং আইন অনুযায়ী যা করণীয়, সেটিই হবে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না।