রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০২:২২ পিএম

বাংলাদেশ সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ্য নেতৃত্বের মূল্যায়ন ও পেশাদারিত্বকে সুসংহত করার প্রত্যয়ে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (প্রথম পর্ব)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনাবাহিনী সদর দফতরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই পদোন্নতি পর্ষদের কার্যক্রম সূচনা করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেনা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং উর্ধ্বতন পদে দক্ষ কর্মকর্তা নির্বাচনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই পর্ষদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যোগ্য কর্নেলদের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেলদের কর্নেল পদবীতে পদোন্নতির জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।

 

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে সকল বীর সেনানী মাতৃভূমির রক্ষায় জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের চিরস্মরণীয় আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়।

 

এর পাশাপাশি পার্বত্য চাটগাঁর দুর্গম অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে দেশের সেবা করতে গিয়ে আহত ও জীবন উৎসর্গকারী সেনা সদস্যদের অবদানকেও প্রধানমন্ত্রী পরম শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সংবেদনশীল সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

 

নির্বাচনী পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পেশাদার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন রাষ্ট্রপ্রধান। কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে থাকার জন্য তিনি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, উর্ধ্বতন পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের কেবল বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ডের ভিত্তিতেই বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের অনন্য গুণাবলি, সামরিক শৃঙ্খলার কঠোর মান, সততা, সুগভীর বিশ্বস্ততা ও দেশের প্রতি আনুগত্য এবং সর্বোপরি নির্দিষ্ট পদে নিযুক্তিগত উপযুক্ততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও নিরপেক্ষতার নীতি অক্ষুণ্ণ রেখে সামরিক বাহিনীর প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংকট ও জনকল্যাণে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

 

বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে কার্যকর সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সেনা সদস্যরা যে জাতীয় অবদান রেখে চলেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

 

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সেনা সদস্যদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও নিরলস সেবার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা ও সৈনিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান।

 

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাসদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থলে শুভ আগমন জানালে তাকে উষ্ণ ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান এবং চিফ অব General Staff (সিজিএস)।

 

রাষ্ট্র পরিচালনায় সময়সূচির অত্যন্ত ব্যস্ততার মাঝেও সশরীরে উপস্থিত থেকে পদোন্নতি পর্ষদের উদ্বোধন করায় সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ সেনা সদর ও সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সমাপনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে ঐতিহ্যবাহী দলগত আলোকচিত্রে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেনা সদরের পরিদর্শন বইয়ে পরিদর্শনের ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে নিজের মূল্যবান মতামত ও দূরদর্শী মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।