গৃহ উপদেষ্টা (হোম অ্যাডভাইজার) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের সময় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা মোট নয় দিনের জন্য মোতায়েন থাকবেন। এই মোতায়েনকাল ভোটগ্রহণের আগে, চলাকালীন ও পরের সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে দেশের সার্বিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
ঢাকা মহানগরীর আনসার সদর দপ্তরে বাংলাদেশ আনসার কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবহন সেবার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গৃহ উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এই প্রথম আমরা প্রতিটি প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েন করছি।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আনসারের মোট ১৩ জন সদস্যকে দায়িত্বে নিয়োজিত করা হবে। এদের মধ্যে সমন্বিত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তিনজন সদস্যের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে। অবশিষ্ট ১০ জন সদস্য সহায়ক নিরাপত্তা প্রদান করবেন। এই নিরস্ত্র সদস্যদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং চারজন নারী সদস্য থাকবেন বলে তিনি জানান। এই বিন্যাসটি কেন্দ্রগুলোতে একটি সুসমন্বিত এবং সর্বাঙ্গীণ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
গৃহ উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন যে, আসন্ন নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে মসৃণ করবে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে। তার মতে, "এই নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উপস্থিতি ভোটার এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে।" তাদের মোতায়েন নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে চলমান অভিযান প্রসঙ্গেও গৃহ উপদেষ্টা কথা বলেন। তিনি জানান, "অবৈধ অস্ত্র জব্দ করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা তত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।"
তিনি দৃঢ়তার সাথে আশ্বাস দেন যে, "কোনোভাবেই অবৈধ অস্ত্রকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে দেওয়া হবে না।" আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সম্ভাব্য অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করার জন্য তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল প্রকার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
দীর্ঘকাল ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে গৃহ উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি বাহিনী সব সময়ই জাতীয় নিরাপত্তায় একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে। দেশের সেবায় তাদের এই নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্ব সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।"
পাশাপাশি, তিনি বাংলাদেশ আনসার কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক এর সদস্যদের গতিশীলতা এবং সামগ্রিক কল্যাণ উন্নয়নের জন্য নতুন পরিবহন সেবা চালু করারও প্রশংসা করেন। এই নতুন সেবাটির মাধ্যমে আনসার সদস্যদের জন্য উন্নত লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হলো।
নব-উদ্বোধন হওয়া এই পরিবহন বহরে বড় বাস, মিনিবাস, পণ্যবাহী গাড়ি (ক্যারিয়ার) এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ মোট ৩১টি নতুন যানবাহন রয়েছে। কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্যোগটি কর্মীদের চলাচলে সুবিধা দিতে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সহায়ক হবে।
গৃহ উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, "এই উদ্যোগটি আনসার সদস্যদের ভ্রমণ সংক্রান্ত অসুবিধাগুলো অনেকাংশে হ্রাস করবে এবং তাদের কর্মদক্ষতা ও মনোবল উন্নত করবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "উন্নত লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিতভাবে জাতীয় সেবায় তাদের অবদানকে আরও জোরদার করবে।"
সব মিলিয়ে, প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্তটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং এটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে প্রতীয়মান হয়। এই পদক্ষেপ নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ে সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।