অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরো (এনজিওএবি) এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপটির আয়োজন করে। ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের সক্রিয় সহযোগিতায় 'প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে ত্বরান্বিত রূপান্তর (ISPAT)' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ইউএনডিপির ঢাকা কার্যালয় থেকে রবিবার সন্ধ্যায় প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই নীতি সংলাপে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), খুলনার স্থানীয় প্রশাসন এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর ৭০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. দাউদ মিয়া। তিনি তার বক্তব্যে এনজিওগুলোর কার্যক্রম সহজীকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ব্যুরো বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে এনজিওগুলোর জন্য নানা প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
মো. দাউদ মিয়া বলেন, "আমরা এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সামাজিক বা অর্থনৈতিক পটভূমি নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ এবং প্রাপ্য মর্যাদা পাবে। এনজিওগুলো তৃণমূল পর্যায়ে যে অত্যন্ত মূল্যবান কাজ সম্পাদন করছে, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো গভীরভাবে তার প্রশংসা করে এবং আমরা ভবিষ্যতেও তাদের পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
এনজিওএবি পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে, 'ইস্পাত' প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আজিজুল হক সরদার প্রকল্পের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি এনজিও প্রোফাইলের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া, অনলাইন সেবা পোর্টাল চালু করা, একটি কেন্দ্রীভূত এনজিও ডেটাবেস (তথ্যভাণ্ডার) তৈরি এবং এনজিও ও সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলির মূল লক্ষ্য হলো সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা, কার্যক্রমে স্বচ্ছতা উন্নত করা এবং তথ্য-চালিত নীতি প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করা। সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বিতান কুমার মণ্ডল।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "ইস্পাত প্রকল্পের অধীনে এই পদ্ধতিগত উন্নতি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক, তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যখন সাধারণ মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত থাকে, তখন উন্নয়নের অন্যান্য সকল রূপ বা ক্ষেত্র স্বাভাবিকভাবেই বিকশিত হয়।"
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা তাদের মাঠ পর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-ক্ষুদ্র সংস্থাগুলির জন্য নিরীক্ষা (অডিট) ব্যয় সংক্রান্ত জটিলতা, কর (ট্যাক্স) ও ভ্যাট সংক্রান্ত সমস্যা, তহবিল ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নিয়মিত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা।
তারা একটি জাতীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব করেন, যেখানে সকল এনজিও রিয়েল-টাইমে বা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের তথ্য হালনাগাদ করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা প্রধান সৈয়দ হায়দার এই উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, "আমরা সুশাসন শক্তিশালীকরণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে এনজিওএবি, ইউএনডিপি এবং অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আসিফ কাশেম এবং ইউএনডিপির সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট শীলা তাসনীম হকও উপস্থিত ছিলেন।