রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশনা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৩ পিএম

ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশনা
ছবি: File Photo

বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুভূত হওয়া একাধিক ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির নিয়মিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই নির্দেশনার কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের বর্তমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতির বাস্তবচিত্র তুলে ধরে স্বীকার করেন যে, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশে এখনো ভূমিকম্পের কোনো কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা বা আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেই।

 

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন অনেক আধুনিক অ্যাপ ও প্রযুক্তি রয়েছে, যা ভূমিকম্প আঘাত হানার অন্তত ১০ সেকেন্ড আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে সক্ষম। বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বা অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

শহরাঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ঝুঁকি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বা ‘বিল্ডিং কোড’ যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর মতে, নির্মাণবিধি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও প্রতিকূল হতে পারে।

 

বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণের প্রবণতা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) কোনো ভবনের নকশা বা পরিকল্পনা অনুমোদনের আগে সরেজমিনে জমি ও পরিবেশগত অবস্থান যাচাই করার নির্দেশ দেন, যাতে জলাশয় ভরাট করে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো তৈরি না হয়।

 

দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রস্তুতি সম্পর্কেও উপদেষ্টা খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ছোটখাটো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস এখন পর্যন্ত ত্বরিৎ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তবে রিখটার স্কেলে বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানলে পরিস্থিতি আসলে কেমন হবে এবং তা মোকাবিলায় সক্ষমতা কতটুকু, তা কেবল বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলেই সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ও শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হওয়া পরপর চারটি ভূমিকম্পে জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত দশজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যা অবকাঠামোগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানানো হলো।